হিজামা চিকিৎসা কি - হিজামা চিকিৎসার উপকারিতা

প্রিয় পাঠক বৃন্দ আজকের এই আর্টিকেলে হিজামা চিকিৎসা কি এবং হিজামা সম্পর্কিত নানা বিষয় তুলে ধরার চেষ্টা করব যেমনঃ হিজামা চিকিৎসা কি, হিজামা চিকিৎসার উপকারিতা, হিজামা কিভাবে করা হয় এবং হিজামা চিকিৎসার খরচ ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক-

Image

হিজামা চিকিৎসা প্রাচীনতম চিকিৎসা পদ্ধতি গুলোর মধ্যে অন্যতম এবং বহুল প্রচলিত একটি চিকিৎসা পদ্ধতি। বিভিন্ন ইসলামিক ইতিহাস থেকে জানা যায় যে এই চিকিৎসা পদ্ধতি পূর্বে ব্যাপক জনপ্রিয় ছিল। এই চিকিৎসা করার মাধ্যমে যেকোনো কঠিন রোগ থেকে আরোগ্য লাভ করা সম্ভব। হিজামা চিকিৎসা অন্য যেকোনো মেসেজ থেরাপি থেকে নিরাপদ এবং দীর্ঘস্থায়ী ভাবে পেশী দ্বয়ের টান দিতে সক্ষম যার ফলে খুব দ্রুত শরীরে যে কোন স্থানের ব্যাথা থেকে আরোগ্য লাভ করা যায়।

হিজামা থেরাপির ফলে একজন ব্যক্তির শরীরের রক্তনালি ফেটে যায় এবং বিষাক্ত রক্ত বা বিভিন্ন প্রকার টক্সিন বের হয়ে আসে। এভাবে এই চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যবহার করে যে কোন কঠিন এবং দীর্ঘস্থায়ী রোগের চিকিৎসা করা হয়।

পেজ সূচিপএঃ হিজামা চিকিৎসা কি - হিজামা চিকিৎসার উপকারিতা

হিজামা চিকিৎসা কি 

হিজামা চিকিৎসা হলো এমন এক ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতি যার মাধ্যমে শরীরের টিস্যু এবং অঙ্গ থেকে বিভিন্ন প্রকার বিষাক্ত পদার্থ বা টক্সিন মুক্ত করা হয়। এটি বিশ্বের প্রাচীনতম চিকিৎসা পদ্ধতি গুলোর মধ্যে অন্যতম একটি চিকিৎসা পদ্ধতি। এটি বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন নামে পরিচিত যেমনঃ ভ্যাকুয়াম কাপিং, হিজামা কাপিং, হর্ণ ট্রিটমেন্ট ইত্যাদি।

এই চিকিৎসা পদ্ধতিতে একটি কাপ ব্যবহার করা হয় যা শরীরের টিস্যুতে লাগিয়ে এয়ার প্রেসার দিয়ে টিস্যুকে টান টান করে ফুলানো হয়, যাতে করে এর ভেতরে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায় এবং এর আশেপাশের অপরিশোধিত এবং বিষাক্ত রক্ত টেনে বাইরে বের করে দেয়।

বিভিন্ন ওষুধের বিকল্প হিসেবে এই চিকিৎসা করা হয়। এই চিকিৎসা পদ্ধতির চর্চা এশিয়াতে হলেও পরবর্তীতে ইউরোপ, আমেরিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে এই চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

হিজামা চিকিৎসকরা সাধারণত উচ্চ রক্তচাপ, ব্রণ, দীর্ঘস্থায়ী পিঠের ব্যাথা, বন্ধ্যাত্ব এবং পিরিয়ড স্ক্রাপিং সহ বিভিন্ন চিকিৎসায় এই পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকেন।

হিজামা কিভাবে করা হয়

হিজামা চিকিৎসা একটি প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতি। বিভিন্ন রকম হিজামা চিকিৎসা পদ্ধতি রয়েছে যেমনঃ দুর্বল কাপিং, শক্তিশালী কাপিং, মাঝারি কাপিং, সুই কাপিং, হট নিডেল কাপিং, ব্লিডিং কাপিং, ভেষজ কাপিং, ওয়াটার কাপিং ইত্যাদি। পূর্বে হিজামা চিকিৎসা পদ্ধতির কাপ তৈরি করার জন্য বিভিন্ন ধাতু এবং বাঁশ ব্যবহার করা হতো বর্তমানে সিলিকন বা কাঁচ দিয়ে কাপ তৈরি করা হয় যা হিজামা চিকিৎসার জন্য স্পন্দনশীল ভ্যাকুয়াম তৈরি করে।

হিজামা করার জন্য প্রথমে রোগীর নির্ধারিত স্থান স্যানিটাইজ করে সেখানে তেল মাখানো হয় যাতে চামড়ার স্ট্রেস কমে যায় এবং হিজামা করার জন্য উপযোগী হয়ে ওঠে। তেল মাখানোর পর হিজামা করার জন্য ওই স্থানে কাপ বসানো হয় , তারপর বাইরে থেকে এয়ার প্রেসার দিলে ভেতরের অংশে শোষণ শুরু হয় এবং অতিরিক্ত চাপের জন্য আবদ্ধ অংশের টিস্যু ফুলে যায় এবং রক্তনালী ফেটে বিষাক্ত রক্ত বা বিভিন্ন টক্সিনগুলো কাপের ভেতরে এসে জমা হয়।

শরীরের টক্সিন বের করে আনার জন্য এভাবে কিছু সময় পর পর কাপ খুলে ওই স্থানে ব্লেড দিয়ে আচর দেওয়া হয় যেন খুব সহজেই শরীরের অতিরিক্ত বিষাক্ত রক্তগুলো বের হয়ে আসতে পারে। তবে অনেক জায়গায় ব্লেডের পরিবর্তে সুই দিয়ে ফোটা করা হয়। তবে সুই এর থেকে ব্লেড বেশি কার্যকরী। এই হিজামা পদ্ধতি ততক্ষণ পর্যন্ত চলতে থাকে যতক্ষণ পর্যন্ত না শরীর থেকে রক্তের পরিবর্তে হলুদ রক্ত পানি বা সিরাম বের হয়।

হিজামা চিকিৎসার উপকারিতা

হিজামা একটি অনেক প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতি। হাদিস থেকে প্রমাণিত আছে যে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে এই চিকিৎসা গ্রহণ করতেন এবং সাহাবীদের এই চিকিৎসা গ্রহণের জন্য উৎসাহিত করতেন। কারণ হিজামা করলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং শরীর থেকে অতিরিক্ত ময়লাযুক্ত বা বিষাক্ত রক্ত বের হয়ে যায় যার ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা পূর্বের তুলনায় অনেক গুণ বৃদ্ধি পায়। তাহলে চলুন এখন জেনে নেওয়া যাক হিজামা চিকিৎসার উপকারিতা-

  • শরীরের দীর্ঘস্থায়ী রোগ নিরাময় করার জন্য হিজমা থেরাপি অনেক ভালো কাজ করে। যেকোনো দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা পিটের ব্যথা ইত্যাদির ব্যাথা দূর করার জন্য হিজামা করলে অনেক ভালো ফল পাওয়া যায়।
  • মাথার ব্যথা দূর করার জন্য এবং চুল পড়া রোধ করার জন্য হিজামা ভালো কাজ করে।
  • শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বৃদ্ধি পেয়ে যায়। একটি গবেষণার মাধ্যমে দেখা গেছে যে হিজামা চিকিৎসা গ্রহণের পর শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ১৫০% বৃদ্ধি পায়।
  • উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক, খিচুনি ইত্যাদি রোগের জন্য হিজামা ভালো কাজ করে।
  • ব্রণের সমস্যা দূর করার জন্য হিজামা থেরাপি করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।
  • নিয়মিত হিজামা থেরাপি গ্রহণ করলে মানসিকভাবে শান্তি পাওয়া যায়।
  • মস্তিষ্কের মনোযোগ বৃদ্ধি করার জন্য হিজামা চিকিৎসা অনেক উপকারী।
  • এছাড়া হিজামা চিকিৎসা গ্রহণ করলে দেহের অভ্যন্তরে শক্তি চলাচলের পথ পরিষ্কার করে যা জীবনী শক্তি বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে।
এছাড়াও আরো অনেক উপকারিতা রয়েছে হিজামা চিকিৎসার। তাই আপনি যদি শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে চান এবং শরীরের অতিরিক্ত বিষাক্ত পদার্থ এবং টক্সিন গুলো বের করে আনতে চান তাহলে হিজামা চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারেন।

হিজামা চিকিৎসার খরচ

হিজামা চিকিৎসা অন্যান্য চিকিৎসার মত এতটা ব্যয়বহুল নয়। এই চিকিৎসা সাধারণত ৫০০ টাকা থেকে শুরু হয়ে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে এটি আপনার রোগের ধরন এবং আপনি কোন থেরাপি নিতে চাচ্ছেন সেটার ওপর নির্ভর করবে। বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় হিজামা সেন্টার রয়েছে যেখান থেকে আপনি খুব সহজে অল্প খরচের মাধ্যমে হিজামা চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারেন।

[বিঃ দ্রঃ হিজামা করার পূর্বে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে করবেন]


Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url