ইন্টারনেট কি - ইন্টারনেট কত প্রকার ও কি কি

এই যুগে ইন্টারনেট(Internet) ব্যবহার করে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া প্রায় বিরল। মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকে শুরু করে সকল কাজে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে এই ইন্টারনেট। যা কিনা ইন্টারনেট সৃষ্টির পূর্বে কল্পনাতেও আনা যেত না। তাই অনেকের মধ্যে জানার আগ্রহ থাকে যে ইন্টারনেট কি, এটি কিভাবে কাজ করে এবং এটি কত প্রকার ও কি কি ।

প্রিয় পাঠকবৃন্দ আজকের এই পোস্টে ইন্টারনেট কি, ইন্টারনেট কত প্রকার ও কি কি, ইন্টারনেট কিভাবে কাজ করে এ সমস্ত বিষয় সম্পর্কে আপনাদের সামনে আলোচনা সাপেক্ষে তুলে ধরার চেষ্টা করব। 


পেজ সূচিপএঃ ইন্টারনেট কি | ইন্টারনেট কত প্রকার ও কি কি

ইন্টারনেট কি 

যে বিশেষ গেটওয়ে বা রাউটারের(Router) মাধ্যমে কম্পিউটার নেটওয়ার্কগুলি একে অপরের সাথে সংযুক্ত হয় তাকে ইন্টারনেট বলে। ইন্টারনেটকে সংক্ষেপে নেট বলা হয়ে থাকে। ইন্টারনেট ইন্টারকানেক্টেড নেটওয়ার্কের(Interconnected Network) সংক্ষিপ্ত রূপ।

ইন্টারনেট কি এটি সহজ ভাবে বলতে গেলে বলতে হয়, ইন্টারনেট হল কম্পিউটারের দ্বারা যোগাযোগ স্থাপন করার এক বিশেষ নেটওয়ার্ক যা কোন ভৌতিক সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।

ইন্টারনেটের মাধ্যমে একটি কম্পিউটারের সাথে আরেকটি কম্পিউটারের সংযোগ স্থাপন করার এই বিশেষ কৌশলকে world wide web বলা হয়।

ইন্টারনেট কত প্রকার ও কি কি

ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর ধরন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ইন্টারনেটের স্পিড এবং এর অবকাঠাময় অনেক পরিবর্তন এসেছে। তবে এখন পর্যন্ত ইন্টারনেটের যে সকল ভাগ রয়েছে তা সম্পর্কে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলোঃ-

০১.সেলুলার ইন্টারনেট(Cellular Internet)

বর্তমানে ইন্টারনেটের যতগুলো পরিষেবা রয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় সেলুলার ইন্টারনেট। আমরা সাধারণত মোবাইল ফোনে যে ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকি সেটি মূলত সেলুলার ইন্টারনেট। মোবাইল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এই সেলুলার ইন্টারনেট আমাদের মোবাইল ফোনে এসে পৌঁছায়। এই ইন্টারনেট পরিষেবার সুবিধা পাওয়ার জন্য মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হয়।

০২.কেবল ইন্টারনেট(Cable Internet)

কেবল ইন্টারনেট পরিষেবা মূলত ব্রডব্যান্ড এর মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছে পৌঁছানো হয়। বর্তমানে কমার্শিয়াল কাজের জন্য কিংবা বাড়িতে সব সময় ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য যে ইন্টারনেট ব্যবহার করা হয় সেটি মূলত কেবল ইন্টারনেট।

০৩.ওয়্যারলেস ইন্টারনেট(Wireless Internet)

ওয়্যারলেস ইন্টারনেট হচ্ছে শেয়ারিং ডিভাইস ইন্টারনেট পরিষেবা। ওয়্যারলেস ইন্টারনেটের মাধ্যমে দুটো ডিভাইসকে সামনে রেখে একটি ডিভাইস থেকে আরেকটি ডিভাইসে ইন্টারনেট শেয়ার করা যায়।

০৪.ডিএলএস ইন্টারনেট(DLS Internet)

ধীর গতি সম্পন্ন ইন্টারনেট পরিষেবা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য ডিএলএস ইন্টারনেট পরিষেবা চালু করা হয়। DLS Internet পরিসেবা Dial Up Internet ইন্টারনেট পরিষেবা থেকে ১০০ গুণ দ্রুত গতি সম্পন্ন ছিল।

০৫.স্যাটেলাইট ইন্টারনেট(Satellite Internet)

বর্তমানে সব থেকে দ্রুত গতি সম্পন্ন ইন্টারনেট পরিষেবা হচ্ছে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট। স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের মাধ্যমে কোন প্রকার তারের ঝামেলা ছাড়াই শুধুমাত্র স্যাটেলাইট রিসিভার এর মাধ্যমে একজন ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর কাছে ইন্টারনেট পৌঁছে যায়।

০৬.ডায়েল আপ ইন্টারনেট(Dial Up Internet)

ইন্টারনেট পরিষেবা চালু শুরুর দিকে ফোনের লাইনের মাধ্যমে যে ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপন করা হতো সেটি মূলত ডায়েল আপ ইন্টারনেট। এই ইন্টারনেটের স্পিড কম থাকার কারণে মানুষের কাছে ব্যাপক সাড়া ফেলতে পারেনি।

ইন্টারনেট কিভাবে কাজ করে

ইন্টারনেট হল একটি সংযোগ স্থাপনকারীর মাধ্যম, যা বিশ্বব্যাপী কম্পিউটার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কম্পিউটার এবং ডিভাইসের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে। এটি ইন্টারনেট প্রোটোকলের উপর ভিত্তি করে কাজ করে, যা সাধারণ কম্পিউটার এবং সার্ভার এর মধ্যে ডেটা পাঠানো এবং গ্রহণ করার জন্য একটি নির্দিষ্ট নির্দেশাবলী গঠন করে।

ইন্টারনেট দ্বারা একটি কম্পিউটার আরেকটি কম্পিউটারের সাথে ছোট ছোট নেটওয়ার্ক দ্বারা যুক্ত হয়। এ সমস্ত ছোট ছোট নেটওয়ার্কগুলো ইন্টারনেটের মূল নেটওয়ার্কের সাথে গেটওয়ে এর মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যাকবোনের(Internet Backbone) সাথে কানেক্ট হয়।

এভাবে ইন্টারনেট ব্যাবহার করে একটি কম্পিউটার থেকে আরেকটি কম্পিউটারে ডেটা ট্রান্সফার থেকে শুরু করে সকল কাজ সম্পাদন করা হয়।

ইন্টারনেটের সুবিধা ও অসুবিধা

আমরা দিনের অধিকাংশ সময় ইন্টারনেট ব্যবহার করে কাটিয়ে দি। কিন্তু আমরা অনেকেই জানিনা ইন্টারনেটের সুবিধা এবং অসুবিধা কি। তাই এখন আমরা ইন্টারনেটের সুবিধা ও অসুবিধার দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করব।

সুবিধাঃ

  • ইন্টারনেটের সবথেকে বড় সুবিধা হল আমাদের সকল অজানা তথ্য খুব সহজেই ইন্টারনেটে ব্রাউজ করে জানতে পারি।
  • ইন্টারনেট ব্যবহার করে আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো ব্যবহার করে একে অপরের সাথে খুব সহজেই যোগাযোগ করতে পারি।
  • ইন্টারনেট ব্যবহার করে আমরা যেকোনো জায়গায় বসে থেকে রিমোট জব(Remote job) করতে পারি।
  • ইন্টারনেট ব্যবহার করে আমরা যেকোনো সময় Audio, Video, Document etc. এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পাঠাতে পারি।
  • ইন্টারনেট ব্যবহার করে আমরা ঘরে বসে অনলাইনে ক্লাস করতে পারি।
  • এক কথায় বলতে গেলে ইন্টারনেট ব্যবহার করে আমরা পুরো বিশ্বকে হাতের মুঠোয় আনতে পারি।

অসুবিধাঃ

  • ইন্টারনেটে আসক্ত ব্যক্তি ঘুম না হওয়া, উচ্চ রক্তচাপ এবং মানসিক সমস্যার মতো ভয়াবহ সমস্যায় পরতে পারে।
  • ইন্টারনেট ব্যবহার করে হ্যাকাররা ব্যাংক ডাকাতি থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করে নেয়।
  • ইন্টারনেট ব্যবহার করে বিভিন্ন ফাইল আদান প্রদান করার সময় ডিভাইস বা কম্পিউটার ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে।
  • ইন্টারনেটে বিভিন্ন পর্ন ভিডিও এবং পর্ন ওয়েবসাইট গুলো বাচ্চাদের স্বাভাবিক মানসিক বিকাশে বিরূপ প্রভাব ফেলে।
  • এছাড়াও ইন্টারনেটের সবথেকে মারাত্মক ভয়াবহ দিক হচ্ছে  ডার্ক ওয়েব(Dark Web)। এই ডার্ক ওয়েব এর মাধ্যমে সমস্ত অপরাধমূলক কাজ সংগঠিত হয়।

বাংলাদেশে কবে ইন্টারনেট চালু হয়

বাংলাদেশে প্রথম ইন্টারনেট চালু হয় ১৯৯৩ সালে, কিন্তু এই ইন্টারনেট পরিষেবা সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয় ১৯৯৬ সালে। বাংলাদেশে প্রথম ইন্টারনেটের জন্য ভিস্যাট চালু করা হয় ১৯৯৬ সালে এবং আই.এস.এন নামের একটি আইএসপি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইন্টারনেট পরিষেবার ব্যাপক প্রসার ঘটতে শুরু করে।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url