ইথিক্যাল হ্যাকিং কি - ইথিক্যাল হ্যাকিং এর প্রয়োজনীয়তা

বর্তমানে আমরা প্রায় সময় শুনে থাকি ফেসবুক হ্যাক, ইউটিউব চ্যানেল হ্যাক, ইমেইল হ্যাক, ওয়েবসাইট হ্যাক, ব্যাংকের টাকা উধাও এই সমস্ত ঘটনা আমরা বর্তমানে প্রায় শুনে থাকি এবং আমাদের আশেপাশে এরকম ঘটনা অনেক ঘটে যাচ্ছে। তো এখন প্রশ্ন হচ্ছে এগুলো মূলত কারা করে? এগুলো যারা করে তাদেরকে বলা হয় হ্যাকার। এই হ্যাকিং এর ভেতরের একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে ইথিক্যাল হ্যাকিং। প্রিয় পাঠক বৃন্দ আজকের এই পোস্টে আমরা জানবো ইথিক্যাল হ্যাকিং কি এবং আমাদের জীবনে ইথিক্যাল হ্যাকিং এর প্রয়োজনীয়তা কতটুকু।


পেজ সূচিপএঃ ইথিক্যাল হ্যাকিং কি | ইথিক্যাল হ্যাকিং এর প্রয়োজনীয়তা

ইথিক্যাল হ্যাকিং কি

ইথিক্যাল হ্যাকিং হচ্ছে কম্পিউটার সিস্টেম, অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের ভুল বা ত্রুটি খুঁজে বের করে সেগুলো সমাধান করে দেওয়া এবং কম্পিউটার সিস্টেম, অ্যাপ বা ওয়েবসাইটকে আরো বেশি সিকিউর (Secure) বা নিরাপদ করে তোলা।

যারা হ্যাক করে তাদেরকে বলা হয় হ্যাকার। ইথিক্যাল হ্যাকাররা চাইলে যে কোন কিছু হ্যাক করতে পারে কিন্তু তারা সেটা করে না। তারা নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পারমিশন বা বৈধভাবে কোন সিস্টেম, অ্যাপ বা ওয়েবসাইটকে হ্যাক করে থাকে। এক্ষেত্রে তারা একটি নির্দিষ্ট পারিশ্রমিকের ভিত্তিতে এগুলোকে আরো বেশি হাই সিকিউরিটি প্রদান করে থাকে।

ইথিক্যাল হ্যাকিংয়ের প্রয়োজনীয়তা

শুধুমাত্র ব্যক্তিগত জীবনে নয় একটি দেশের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা রক্ষা করার জন্যেও ইথিক্যাল হ্যাকিং এর গুরুত্ব অপরিসীম।

  • ইথিক্যাল হ্যাকিং এর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হল এটি আপনার সিস্টেমের ডেটা বা তথ্য চুরি করা বা ধ্বংস করার হাত থেকে রক্ষা করে।
  • কোন একটি কোম্পানি বা একটি দেশে জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার জন্য ইথিক্যাল হ্যাকিং করা হয়।
  • বহির্বিশ্বের কোন দেশের হ্যাকারদের হাত থেকে দেশের রাষ্ট্রীয় তথ্য রক্ষা করার জন্য ইথিক্যাল হ্যাকিং করা হয়।
  • যেকোনো সাইবার হামলা বা সন্ত্রাসী হামলার হাত থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্য ইথিক্যাল হ্যাকিং করা হয়।
  • এছাড়া নিজের ব্যক্তিগত বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট এবং তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ইথিক্যাল হ্যাকিং করা হয়।

হ্যাকার ও ইথিক্যাল হ্যাকার এর মধ্যে পার্থক্য কি

হ্যাকার হচ্ছে যারা অবৈধভাবে বা পারমিশন না নিয়ে কর্তৃপক্ষের কোন কম্পিউটার সিস্টেমকে হ্যাক করে সেখানকার সমস্ত ডেটা চুরি করে বা ধ্বংস করে অথবা সেই সমস্ত ডেটা নিজের কাছে সংরক্ষণ করে রেখে দিয়ে পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষকে ব্ল্যাকমেইলিং এর মাধ্যমে নিজের স্বার্থ হাসিল করে।

অন্যদিকে ইথিক্যাল হ্যাকার হচ্ছে বৈধভাবে বা কর্তৃপক্ষের পারমিশন নিয়ে কম্পিউটারের সিস্টেমকে বা নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটকে হ্যাক করে, সেখানকার ভুল ত্রুটি নির্ণয় করে, সেগুলোকে সমাধান করে এবং কম্পিউটারের সিস্টেমকে বা ওয়েবসাইটকে হাই সিকিউরিটি(High Security) প্রদান করে।

ইথিক্যাল হ্যাকিং কিভাবে শিখব

ইথিক্যাল হ্যাকিং শিখার বিভিন্ন উপায় আছে। আপনি চাইলে ঘরে বসে অনলাইন অথবা অফলাইন  কোর্স করার মাধ্যমে ইথিক্যাল হ্যাকিং শিখতে পারেন। এজন্য আপনাকে একটি ভালো ট্রেনিং সেন্টার খুঁজে বের করতে হবে এবং তাদের সাথে ভার্চুয়ালি কানেক্ট হতে হবে।

এছাড়া ইউটিউবে ইথিক্যাল হ্যাকিং সম্পর্কিত কোর্স হয়েছে যেগুলো করে আপনি শিখতে পারেন। ইথিক্যাল হ্যাকিং বা সাইবার সিকিউরিটি বিষয়ক বই পড়ার মাধ্যমে আপনি এই বিষয়ে ধারণা নিতে পারেন। অনলাইনে ইথিক্যাল হ্যাকিং বইয়ের pdf  পেয়ে যাবেন যা পড়ার মাধ্যমে আপনি উপকৃত হতে পারেন।

যেহেতু ইথিক্যাল হ্যাকিং বিষয়টি একটি বৃহৎ বিস্তৃত বিষয় তাই এটি শিখার জন্য আপনাকে অবশ্যই ধৈর্য্য ধারণ করে শিখতে হবে এবং কঠোর পরিশ্রমী হতে হবে।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url