সালাতুল তাসবিহ নামাজের নিয়ম

নফল নামাজের মধ্যে অন্যতম একটি নামাজ হল সালাতুল তসবিহ। সালাতুল তাসবিহ নামাজের অন্যতম ফজিলত হলো এই নামাজ আদায় করলে বিগত দিনের সমস্ত গুনাহ মাফ হয়ে যায় এবং প্রচুর সওয়াব লাভ করা যায়। কিন্তু আমরা অনেকেই সালাতুল তাসবিহ নামাজের নিয়ম জানিনা যার কারণে সঠিকভাবে আমরা সালাতুল তাসবিহ নামাজ আদায় করতে পারিনা।

Image

প্রিয় পাঠক বৃন্দ আজকের এই পোস্টে আমরা সালাতুল তাসবিহ নামাজের নিয়ম সম্পর্কে জানব পাশাপাশি সালাতুল তাসবিহ নামাজের ফজিলত এই সব বিষয় নিয়ে পুরো পোস্ট জুড়ে আলোচনা করব। তাই আপনাদের প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে পুরো পোস্ট শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ার জন্য।

পেজ সূচিপত্রঃ সালাতুল তাসবিহ নামাজের নিয়ম

সালাতুল তাসবিহ নামাজ কি

আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের ওপর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করে দিয়েছেন। কিন্তু এই পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের বাইরেও কিছু নফল নামাজ রয়েছে যার ফজিলত অনেক। তার মধ্যে অন্যতম একটি ফজিলতপূর্ণ নামাজ হলো সালাতুল তাসবিহ।

সালাত শব্দের অর্থ ‘নামাজ’। আর তাসবিহ বলতে ‘সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদু লিল্লাহি, ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার’ এগুলো বোঝানো হয়েছে। যে নামাযে নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী এই তাসবিহ পড়া হয় তাকে সালাতুল তাসবিহ বলে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা এই নামাজ ইচ্ছাকৃতভাবে  পড়ে থাকেন।

সালাতুল তাসবিহ নামাজের নিয়ম

সালাতুল তাসবিহ নামাজ পড়ার কিছু নির্দিষ্ট নিয়মাবলী রয়েছে এই সকল বিষয়ে নিচে আলোচনা করা হলো-

সালাতুল তাসবিহ নামাজ পড়ার সময় প্রত্যেক রাকাতে ৭৫ বার তাসবিহ আদায়ের মাধ্যমে চার রাকাতে মোট ৩০০ বার তাসবিহ পড়তে হয়।

আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসুল (সাঃ) তার চাচা আব্দুল মুত্তালিব কে বলেছেন হে চাচা! আমি কি আপনাকে দেব না? আমি কি আপনাকে দান করব না? আমি কি আপনাকে সংবাদ দেবো না? আপনি চার রাকাত নামাজ পড়বেন। প্রত্যেক রাকাতে সূরা ফাতিহার সাথে অন্য একটি সূরা পড়বেন। প্রথম রাকাতে কেরাত পড়া শেষ করার পর ১৫ বার পাঠ করবেন-

سُبْحاَنَ الله وَالْحَمدُ للهِ وَلآَ اِلَهَ اِلاَّاللهُ وَاللهُ اَكْبرُ
উচ্চারণঃ ‘সুবহানাল্লাহি, ওয়াল হামদু লিল্লাহি, ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার।’

এরপর রুকুতে যাবেন এবং রুকু অবস্থায় ১০ বার পাঠ করবেন। রুকু থেকে মাথা উঠানোর পর আবার ১০ বার পাঠ করবেন। রুকু থেকে সিজদায় গিয়ে সিজদারত অবস্থায় ১০ বার পাঠ করবেন। সিজদা থেকে মাথা উঠানোর পর ১০ বার পাঠ করবেন। পুনরায় সিজদায় গিয়ে আবার ১০ বার পাঠ করবেন। সিজদা থেকে মাথা উঠানোর পর আবার ১০ বার পাঠ করবেন। এভাবে পাঠ করলে ৭৫ বার পাঠ করা হবে। চার রাকাতেই আপনি অনুরূপভাবে পাঠ করবেন।

আপনি যদি এই আমলটি প্রতিদিন করতে পারেন, তাহলে তা করুন। যদি না পারেন, তাহলে সপ্তাহের জুম্মা বারে একবার করুন। যদি তাও না পারেন তাহলে, মাসে একবার করুন। যদি সেটাও না পারেন, তাহলে জীবনে একবার হলেও এই আমলটি করুন।

এরপর দ্বিতীয় রাকাতে যখন তাশাহুদ পড়ার জন্য বৈঠকে বসবেন, তখন আগে ১০ বার ওই তাসবীহ পাঠ করবেন, তারপর তাশাহুদ পড়বেন। কিন্তু তাশাহুদ পড়ার পর তাসবীহ পাঠ না করেই তৃতীয় রাকাতের জন্য উঠে যাবেন এবং অনুরূপভাবে তৃতীয় ও চতুর্থ রাকাত শেষ করবেন

যদি কোন এক জায়গায় তাসবীহ পাঠ করতে ভুলে যান, তাহলে যখনই স্মরণে আসবে তখনই ওই নির্দিষ্ট অংশ পাঠ করার সাথে তাসবিহ পড়ে নেবেন। তবে তাসবিহ্‌ মনে রাখার জন্য আঙ্গুলের কর গুনবেন না, তবে আঙ্গুল চেপে রেখে বা ইশারায় মনে রাখতে পারবেন।(আবু দাউদ, হাদিস নংঃ১২৯৭; ইবনে মাজাহ, হাদিস নংঃ১৩৮৭)

সালাতুল তাসবিহ নামাজের ফজিলত

সালাতুল তাসবিহ নামাজের অনেক ফজিলত রয়েছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার চাচা আব্দুল মুত্তালিব কে বলেন,

“আপনি যখন (তাসবিহ) আমল করবেন, তখন আল্লাহ তায়ালা আপনার অতীতের, ভবিষ্যতের, নতুন, পুরাতন, সকল প্রকার সগিরা-কবিরা, গোপনে এবং প্রকাশ্যে করা গুনাহ মাফ করে দেবেন”

প্রিয় মুসলমান ভাই ও বোনেরা আমাদের সকলের উচিত জীবনে একবার হলেও সালাতুল তাসবিহ নামাজ আদায় করা।
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url