তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ম ও নিয়ত

ইসলাম ধর্মের প্রত্যেকটি মানুষের উপর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ। কিন্তু এই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ বাদেও কিছু ফজিলতপূর্ণ এবাদত বা নামাজ রয়েছে যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো তাহাজ্জুদের নামাজ। তাহাজ্জুদের নামাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ফজিলতপূর্ণ একটি ইবাদত

আল্লাহতায়ালা যাদেরকে বিনা হিসেবে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন তাদের মধ্যে এক শ্রেণী মানুষ থাকবে, যারা খুব যত্ন সহকারে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করেন। যত নফল ইবাদত রয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে অন্যতম একটি এবাদত তাহাজ্জুদ নামাজ। এই নামাজকে আমাদের প্রিয় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শ্রেষ্ঠ নফল নামাজ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি নিজে যেমন এই নামাজ আদায় করতে ভুলতেন না ঠিক তেমনি সাহাবীদের এটি পালনে উৎসাহিত করতেন। পবিত্র কোরআনে বিভিন্ন জায়গায় তাহাজ্জুদ নামাজের প্রতি তাগিদ দেওয়া হয়েছে

প্রিয় পাঠকবৃন্দ আজকের এই পোস্টে আমরা জানবো তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ম ও নিয়ত এবং এর ফজিলত সম্পর্কে। তাই আপনাদের প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে খুব মনোযোগ সহকারে আজকের আর্টিকেলটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ার জন্য।


পেজ সূচিপত্রঃ তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ম ও নিয়ত

তাহাজ্জুদ নামাজ কি

তাহাজ্জুদ একটি আরবি শব্দ এর অর্থ ঘুম থেকে জাগা। অর্থাৎ রাতে ঘুম থেকে জাগা পেয়ে যে নফল নামাজ আদায় করা হয় তাকে তাহাজ্জুদ নামাজ বলে।

আমাদের প্রিয় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জীবদ্দশায় কখনো তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া থেকে বিরত থাকেন নি। এই নামাজ সুন্নতে গায়রে ময়াক্কাদা অর্থাৎ এই নামাজ পড়লে অনেক সওয়াব হবে কিন্তু না পড়লে কোন গুনাহ হবে না।

তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ম

তাহাজ্জুদ নামাজ একটি নফল ইবাদত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই রাকাত দুই রাকাত করে এই নামাজ আদায় করতেন। তবে তিনি কখনো ৪ রাকাত, ৮ রাকাত এবং কখনো ১২ রাকাত করেও পড়েছিলেন। তবে কেউ যদি তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ত করে দুই রাকাত নামাজ আদায় করেন তাহলেও তার তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় হবে।

হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, “যে ব্যক্তি এশারের পর দুই বা ততোধিক রাকাত নামাজ আদায় করে, সে তাহাজ্জুদের ফজিলতের অধিকারী হয়।”

যে কোন সূরা দিয়েই এই নামাজ পড়া যায়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লম্বা কেরাত, লম্বা রুকু এবং সিজদা সহকারে বিনয়ের সাথে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করতেন। কেরাত উচ্চস্বরে বা নিচু আওয়াজে উভয়ভাবেই পড়া জায়েজ আছে

নিয়মঃ

  • তাকবীরে তাহরীমা ‘আল্লাহু আকবার’ বলে হাত বাধা
  • ছানা পড়া
  • সূরা ফাতেহা পড়া
  • সূরা ফাতেহার সাথে অন্য কোন সূরা মিলিয়ে পড়া
  • তারপর অন্যান্য নামাজের মত রূকু-সীজদা করা
  • এভাবেই দ্বিতীয় রাকাত আদায় করার পর তাশাহুদ, দুরুদ এবং দোয়া মাসূরা পাঠ করে সালাম ফেরানোর মাধ্যমে নামাজ সম্পন্ন করা।
এভাবে ২ রাকাত করে ৮ রাকাত নামাজ আদায় করা উত্তম।(বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ যদি এশার নামাজ আদায় করার পর বিতরের নামাজ আদায় করে থাকেন, তাহলে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করার পর বিতরের নামাজ আদায় করার দরকার নেই)

তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ত

 ‘আমি দুই রাকাত তাহাজ্জুদের নফল নামাজ আদায় করছি.......’

অতঃপর ‘আল্লাহু আকবার’ বলে হাত বেঁধে নামাজ শুরু করা।

তাহাজ্জুদ নামাজের দোয়া

নবী করিম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গভীর রাতে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার জন্য উঠতেন নিচের এই দোয়াটি সহ সূরা আল-ইমরান শেষ পর্যন্ত পড়তেন।- (বুখারি, মুসলিম ও মেশকাত)

 “রাব্বানা মা খালাক্বতা হাজা বাত্বিলান, সুবহানাকা ফাক্বিনা আজাবান্নার। রাব্বানা ইন্নাকা মাং তুদখিলিন্নারা ফাকাদ আখঝাইতাহু, ওয়া মা লিজজ্বালিমিনা মিন্ আংছার। রাব্বানা সামি’না মুনাদিআই ‍ইউনাদি লিল ইমানি আন আমিনু বিরাব্বিকুম ফাআমান্না; রাব্বানা ফাগফিরলানা জুনুবানা ওয়া কাফ্ফির আন্না সাইয়্যেআতিনা ওয়া তাওয়াফ্ফানা মাআ’ল আবরার।”

অর্থঃ ‘হে আমার প্রতিপালক! এসব তুমি অনর্থক সৃষ্টি করনি। পবিত্রতা তোমারই জন্য। আমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে বাঁচাও। হে প্রতিপালক! নিশ্চয়ই তুমি যাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করো তাকে অপমানিত কর। আর জালিমদের জন্য কোন সাহায্যকারী নেই। হে আমার প্রভু। আমরা ঈমান আনার জন্য একজন আহ্বানকারীকে আহ্বান করতে শুনে  ঈমান এনেছি। হে আমাদের পালনকর্তা। তুমি আমাদের সকল গুনাহ মাফ করে দাও। আমাদের সকল দোষ-ত্রুটি দূর করে দাও। আর নেক লোকদের সাথে আমাদের মৃত্যু দাও।’

তাহাজ্জুদ নামাজের ফযীলত

ফরজ নামাজের পর অন্যান্য সকল নফল নামাজের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে তাহাজ্জুদ নামাজকে।-(আহমাদ, মেশকাত ১১০ পৃঃ)

রাসুল (সাঃ) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি রাতে ঘুম থেকে উঠে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে এবং তার স্ত্রীকেও ঘুম থেকে তুলে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ায় এমনকি সে যদি জাগা না পাই, তবে তার মুখে খানিকটা পানি ছিটিয়ে দেয় তাহলে তার প্রতি আল্লাহ রহমত বর্ষণ করে থাকেন। অনুরূপ কোন নারী যদি রাতে জাগ্রত হয়ে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে এবং তার স্বামীকেও নামাজ পড়ার জন্য জাগায় অথবা জাগা না পেলে তার মুখে খানিকটা পানি ছিটিয়ে দেয় তাহলে তার প্রতিও আল্লাহর রহমত বর্ষিত হতে থাকে।-( আবু দাউদ, নাসায়ী, মেশকাত ১০৯ পৃঃ)

আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করার তৌফিক দান করুক। আমিন

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url