আবরার ফাহাদ হত্যার কারণ - আবরার ফাহাদ হত্যার রায়

আপনি কি আবরার ফাহাদ হত্যার কারণ সম্পর্কে জানেন? তাহলে আজকের এই পোস্টে জানতে পারবেন। আরো জানতে পারবেন আবরার ফাহাদ হত্যার রায় সম্পর্কে। এ পোস্টে আমরা আবরার ফাহাদ এর জীবনী সম্পর্কে আপনাদের সামনে তুলে ধরব।

আপনি যদি আবরার ফাহাদ হত্যার কারণ সম্পর্কে জানতে চান তাহলে সম্পূর্ণ পোস্ট জুড়ে আমাদের সঙ্গে থাকুন। তাহলে চলুন দেরি না করে আবরার ফাহাদ হত্যার কারণ - আবরার ফাহাদ হত্যার রায় সম্পর্কে জেনে নেই।

পেজ সূচিপত্রঃ আবরার ফাহাদ হত্যার কারণ - আবরার ফাহাদ হত্যার রায়

আবরার ফাহাদ হত্যার কারণ

আমরা কম-বেশি আবরার ফাহাদকে সকলেই চিনি। আবরার ফাহাদ হল একজন মেধাবী এবং ধার্মিক ব্যক্তি ছিলেন। তিনি বাংলাদেশের সেরা প্রতিষ্ঠান বুয়েটে পড়াশোনা করতেন। তাকে ২০১৯ সালে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। আমাদের মধ্যে অনেকেই আছে যারা আবরার ফাহাদ হত্যার কারণ সম্পর্কে জানেনা। তাই গুগলে আবরার ফাহাদ হত্যার কারণ সম্পর্কে জানতে চাই। আজকে আমরা আবরার ফাহাদ হত্যার কারণ এবং হত্যার রায় সম্পর্কে আলোচনা করব।

আরো পড়ুনঃ ইসরাত জাহান নামের অর্থ কি

আবরারকে শিবির হিসেবে সন্দেহ করে পিটিয়ে হত্যা করা হয় এ বিষয়টি আবরার হত্যাকাণ্ড অন্যতম কারণ। কিন্তু এটা একমাত্র কারণ নয়। আবরার হত্যাকাণ্ডের পেছনে আরও একটি কারণ রয়েছে। অভিযুক্তদের সমীহ করে সালাম না দেওয়ার বিষয়টিও আবরার ফাহাদ হত্যার অন্যতম একটি কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

অভিযুক্তরা র‍্যাগিং নামে আতঙ্ক তৈরি করেছিল। আসামিরা আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে অন্যান্য শিক্ষার্থীদের মাঝে আতঙ্ক তৈরি করতে চেয়েছিল। যেন অন্যান্য শিক্ষার্থীরা তাদের ভয় করে এবং তাদের যথেষ্ট সম্মান দেয় এবং সালাম দেয়। বুয়েটে ভয়ের রাজত্ব কায়েম করতে চেয়েছিল অভিযুক্তরা। রাত ১০ টার পর থেকে আবরার ফাহাদ এর উপর নির্যাতন শুরু করা হয় এবং ভোররাতে চিকিৎসক আবরার ফাহাদকে মৃত্যু ঘোষণা করেন।

আবরার ফাহাদ এর জীবনী

আবরার ফাহাদ কে আমরা সকলেই চিনি। আজকের এই পোস্টে আমরা আবরার ফাহাদ হত্যার কারণ সম্পর্কে আলোচনা করছি তার সাথে আবরার ফাহাদ হত্যার রায় সম্পর্কে জানব। উপরে আমরা ইতিমধ্যে আবরার ফাহাদ হত্যার কারণ সম্পর্কে জেনে এসেছি। এখন আমরা আবরার ফাহাদ এর জীবনী সম্পর্কে জানব। তাহলে চলুন আবরার ফাহাদ এর জীবনী জেনে নেই।

আবরার ফাহাদ ১৯৯৮ সালে ১২ই ফেব্রুয়ারি কুষ্টিয়া জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। আবরার ফাহাদ এর পিতার নাম বরকত উদ্দিন এবং মাতার নাম হলো রোকেয়া খাতুন। আবরার ফাহাদ ছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় অর্থাৎ বুয়েট এর তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। ২০১৯ সালে ৭ অক্টোবর আবরার ফাহাদ কে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেন।

তিনি কুষ্টিয়া মিশন প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা এবং পরে কুষ্টিয়া জিলা স্কুলে পড়াশোনা করেন। পরবর্তীতে তিনি নটরডেম কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা শেষ করেন এরপর ২০১৮ সালে ৩১ মার্চ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগ পড়াশোনা শুরু করেন। তার বাবা এবং মা কিন্ডার গার্ডেনের শিক্ষক ছিলেন। আবরার ফাহাদরা দুই ভাই। আবরার ফাহাদ এর ছোট ভাই আবরার ফায়াজ তিনিও ২০২২ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় পড়াশোনার সুযোগ পেয়েছে।

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর আবরার ফাহাদ কে তার দুইটি মোবাইল ফোন এবং ল্যাপটপসহ ২০১১ নম্বর কক্ষে নিয়ে আসা হয়। রাত প্রায় ১০ টার দিক থেকে আবরার ফাহাদ কে পেটানো শুরু হয়। এরপর আবরার ফাহাদ কে সারারাত পেটানো হয়। ভোররাতে ২.৫০ মিনিটে চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

আবরার ফাহাদ হত্যার আসামিদের পরিচয়

আজকে আমরা আবরার ফাহাদ হত্যার কারণ সম্পর্কে আলোচনা করছি। আবরার ফাহাদ হত্যা সম্পর্কে জানিনা এই রকম মানুষ আমাদের সমাজে নেই বললেই চলে। ২০১৯ সালে আবরার ফাহাদ হত্যা কান্ড নিয়ে সারা বাংলাদেশ চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। যার ফলে প্রতিটি ঘরে ঘরেই খবর পৌঁছে যায়। তাই আজকে আমরা আবরার ফাহাদ হত্যার কারণ এবং আবরার ফাহাদ হত্যার রায় সম্পর্কে আলোচনা করছি। এখন আমরা আবরার ফাহাদ হত্যার আসামিদের পরিচয় সম্পর্কে জানব।

আরো পড়ুনঃইসরাত জাহান ফারিয়া নামের অর্থ কি

  1. মেহেদী হাসান রাসেল
  2. মুহতাসিম ফুয়াদ হসেন
  3. মোঃ অনিক সরকার অপু
  4. মেহেদি হাসান রবিন
  5. ইফতি মোশাররফ সকাল
  6. মোঃ মনিরুজ্জামান মনির
  7. মো মেফতাহুল ইসলাম
  8. মোঃ মাজেদুর রহমান মাজেদ
  9. খন্দকার তাবাককারুল ইসলাম
  10. হোসাইন মোহাম্মদ তোহা
  11. মোঃ আকাশ হোসেন
  12. মোঃ শামীম বিল্লাহ
  13. এ এস এম নাজমুস সাদাত
  14. মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম
  15. মুয়াজ আবু হুরায়রা
  16. মুনতাসির আল জেমি
  17. অমিত সাহা
  18. ইশতিয়াক আহমেদ মুন্না
  19. মোঃ শামসুল আরেফিন রাফাত
  20. মোঃ মিজানুর রহমান
  21. এস এম মাহমুদ সেতু
  22. মোর্শেদ-উজ-জামান মন্ডল জিসান
  23. এহতেশামুল রাব্বি
  24. মুজতবা রাফিদ
  25. আশিকুল ইসলাম বিটু
  26. মুহাম্মদ গালিব
  27. সাইফুল
  28. আবু নওশাদ শাকিব
  29. মোঃ শাওন মিয়া
  30. সাখাওয়াত ইকবাল
  31. মোঃ ইসমাইল

আবরার ফাহাদ হত্যার রায়

বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ আবরার ফাহাদ হত্যা সম্পর্কে জেনেছিল। এই ঘটনাটি সারাদেশে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল। এই পোস্টে আমরা আবরার ফাহাদ হত্যার কারণ সম্পর্কে জেনেছি এখন আমরা আবরার ফাহাদ হত্যা রায় সম্পর্কে জানব। আবরার ফাহাদ কে হত্যা করার পরপরই অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের গ্রেপ্তার করা হয়। যদিও হত্যাকাণ্ডে জড়িত চারজন এখনো পলাতক।

১৩ নভেম্বর অভিযোগ পত্র দাখিল করে গোয়েন্দা পুলিশ। এই অভিযোগপত্রে ২৫ জনকে আসামি করা হয়। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন মামলার বিচার কার্য দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের হবে। এখানে প্রথম ৯০ দিনের এবং তারপরে ৩০ দিন সময় দেওয়া হয়। মোট ১২০ দিনের মধ্যে বিচারকার্য শেষ না হলে অতিরিক্ত ১৫ দিন সময় পাবে। মোট ১৩৫ দিনের মধ্যে বিচার কাজ শেষ করতে হবে।

বিচারক বলেন সাক্ষ্য ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক পর্যালোচনা করে রায় ঘোষণার জন্য আরও কিছু সময় প্রয়োজন। আজ রায় ঘোষণা করা হলো না রায় ঘোষণা হবে চলতি বছরের ৮ ডিসেম্বর। আবরার ফাহাদ হত্যার চূড়ান্ত রায় এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

এরপর 8 ডিসেম্বর এ মামলায় অভিযুক্ত ২৫ আসামের সবাইকে দোষী সাব্যস্ত করে ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল বিচারক আবু জাফর কামরুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন। আসামিদের সবাই বুয়েটের ছাত্র এবং ছাত্রলীগের কর্মী। ২৫ জনের মধ্যে ২২ জন আদালতে উপস্থিত ছিলেন এবং তিনজন ছিলেন পলাতক।

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে শেরে বাংলা হল এর আবাসিক ছাত্র আবরারকে ছাত্রলীগের এক নেতার কক্ষে নিয়ে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়। এই সূত্র ধরে বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়। এরপর আসামিদের মধ্যে ২৫ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ৫ জন আসামিকে যাবজ্জীবন, এদের মধ্যে ৩ জন পলাতক। আবরার ফাহাদ কে মারার মধ্যে সরাসরি জড়িত ছিলেন ১১ জন।

আবরার ফাহাদ হত্যার তারিখ

আজকের এই পোস্টে আমরা আবরার ফাহাদ হত্যার কারণ সম্পর্কে আলোচনা করছি। ইতিমধ্যে আমরা আবরার ফাহাদ হত্যার অনেকগুলো বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করে এসেছি। এখন আমরা আবরার ফাহাদ হত্যার তারিখ সম্পর্কে জানব। তাহলে চলুন আবরার ফাহাদ কখন কত তারিখে হত্যা করা হয় তা জেনে নেই।

আরো পড়ুনঃ নুসাইরা নামের অর্থ কি

৬ অক্টোবর ২০১৯ রাতে আবরার ফাহাদ কে তার দুইটি মোবাইল ফোন এবং ল্যাপটপসহ ২০১১ নম্বর কক্ষে নিয়ে আসা হয়। এরপর আবরার ফাহাদ কে সারারাত পেটানো হয়। রাত প্রায় ১০ টার দিক থেকে আবরার ফাহাদ কে পেটানো শুরু হয়। ভোররাতে ২.৫০ মিনিটে চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। সেই হিসেবে আবরার ফাহাদ হত্যার তারিখ ৭ অক্টোবর ধরা হয়।

শেষ কথাঃ আবরার ফাহাদ হত্যার কারণ - আবরার ফাহাদ হত্যার রায়

আপনারা যারা আবরার ফাহাদ হত্যার কারণ - আবরার ফাহাদ হত্যার রায় সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন তাদের জন্য উপরে এই সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে। এর জন্য আপনাকে সম্পূর্ণ পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়তে হবে। তাহলে আপনি আবরার ফাহাদ হত্যার কারণ সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জানতে পারবেন। উল্লেখিত যে আবরার ফাহাদ কোনো রকম রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত ছিলেন না।

আবরার ফাহাদ হত্যার কারণ উপরে আলোচনা করা হয়েছে। এতক্ষন আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। এরকম পোস্ট আরও পড়তে নিয়মিত আমাদের ওয়েবসাইট ফলো করুন।১৬৮৩০

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url