গাজা খেয়ে দুধ খেলে কি হয়

গাঁজা মূলত একটি মাদকদ্রব্য এটি ক্যানাবিস গাছের শীর্ষ পাতা, ডাল এবং ফুল দিয়ে তৈরি যা এই উপমহাদেশে গাঁজা নামে পরিচিত। একই জিনিস পশ্চিমা দেশগুলোতে মারিজুয়ানা বা মারিহুয়ানা নামে পরিচিত। গাঁজার নেশা প্রায়শই, আনন্দ, শান্তি এবং উদ্দীপনার অনুভূতি সৃষ্টি করে। তবে এটি মাথা ঘোরা খিচুনি, অ্যাংজাইটি এবং স্মৃতিশক্তি হ্রাসের মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও সৃষ্টি করতে পারে।


কি খেলে গাজার নেশা কাটে

গাঁজা একটি ক্ষতিকর মাদকদ্রব্য যা মানুষকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়। তবে অনেকেই মানসিক অবসাদ কিংবা বন্ধুদের পাল্লায় গাঁজা সেবন করে থাকেন। গাঁজা সেবনের পর তৎক্ষণাৎ তারা গাঁজার নেশা কাটানোর জন্য বিভিন্ন উপায় খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন। তাই এখন আমরা জানবো কি খেলে গাজার নেশা কাটে।
  • গাজার নেশা কাটানোর জন্য ছোলা অত্যন্ত কার্যকারী। ছোলায় থাকা প্রোটিন এবং ফাইবার গাজার নেশার প্রভাব কমাতে সাহায্য করে।
  • ঘি অত্যন্ত উপকারী একটি পদার্থ। ঘি গাজার নেশার প্রভাব কমাতে সাহায্য করে।
  • আদা গাজার নেশার প্রভাব কমাতে সাহায্য করে

গাঁজা খেয়ে দুধ খেলে কি হয়

গাজার যেমন অনেক ভালো দিক রয়েছে তেমনি অনেক ক্ষতিকর দিক রয়েছে। মানুষ সাময়িক শান্তি এবং উদ্দীপনার জন্য গাঁজা সেবন করে থাকে। তবে আপনাদের মধ্যে যারা গাঁজাখোর আছেন তারা কি জানেন গাঁজা খেয়ে দুধ খেলে কি হতে পারে? আসুন আমি আপনাদেরকে বলে দিচ্ছি! গাজা খেয়ে দুধ খেলে নেশার প্রভাব দ্রুত এবং তীব্র হয় এবং এটি অতিরিক্ত উদ্দীপনার সৃষ্টি করে। তবে এর পাশাপাশি এটি মাথা ঘোরা, খিচুনি, অ্যাংজাইটি এবং স্মৃতিশক্তি হ্রাসের মতো মারাত্মক পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকিও বাড়ায়।

গাঁজা খেলে কি কি ক্ষতি হয়

গাঁজা সেবনের অনেকগুলো ক্ষতিকর দিক রয়েছে। আসুন আপনাদের সামনে এই ক্ষতিকর দিক গুলো তুলে ধরি-
  1. শারীরিক ক্ষতিঃ গাঁজা সেবনের ফলে হৃদরোগ, শ্বাসকষ্ট, ক্যান্সারের ঝুঁকি, এইচআইভি/এইডস এর ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
  2. মানসিক সমস্যাঃ গাঁজা সেবনের ফলে মানসিক সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। যেমনঃ ডিপ্রেশন, অতিরিক্ত অস্থিরতা কিংবা অত্যাধিক হৃদপিড়া।
  3. আর্থিক অবস্থাঃ গাজা একটি ব্যয়বহুল মাদকদ্রব্য। প্রতিনিয়ত গাঁজা ক্রয় করে সেবন করতে থাকলে আর্থিক অবস্থার অবনতি হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
  4. সামাজিক প্রভাবঃ গাজা সেবনের ফলে গাঁজা সেবনকারীর মধ্যে আচরণ বিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি পরিলক্ষিত হয় যা কিনা সামাজিক সম্পর্কে অস্থিরতা সৃষ্টির কারণ হতে পারে।
  5. শিক্ষার প্রভাবঃ দীর্ঘদিন ধরে গাঁজা সেবনের ফলে স্মৃতিশক্তি হ্রাসের মতো ঘটনা ঘটতে পারে, যা শিক্ষার উপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
উপরে উল্লেখিত ক্ষতিকর দিকগুলো ছাড়াও গাজার আরো জানা-অজানা অনেক ক্ষতিকর দিক রয়েছে।

গাঁজার উপকারিতা

চিকিৎসা বিজ্ঞানে মারিজুয়ানা বা গাজা মূলত চিকিৎসক-প্রস্তাবিত ভেষজ থেরাপি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। যা ইতোমধ্যে কানাডা, বেলজিয়াম, অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ড, স্পেন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৩২ টি রাজ্যে স্থান দখল করে নিয়েছে। ১৯৭০ এর দশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এই গাজার ব্যবহার জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। গাজার উপকারী দিকগুলো হলো-
  1. ব্যথানাশক
  2. এন্টি ডিপ্রেশন
  3. এন্টিঅক্সিডেন্ট
  4. ক্যান্সার প্রতিরোধক

সতর্কতা

গাঁজা একটি মাদকদ্রব্য তাই এটি গ্রহণের আগে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরী। গাজা খাওয়ার পূর্বে নিচে উল্লেখিত বিষয়গুলি খেয়াল করুন-
  • গাজা খাওয়ার পূর্বে অবশ্যই ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন
  • গাঁজা খাওয়ার সময় আপনার পরিবেশের দিকে খেয়াল রাখুন
  • গাঁজা খাওয়ার পর গাড়ি চালানো কিংবা বড় কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত থাকুন

শেষ কথা

গাজা একটি মাদকদ্রব্য। এর উপকারিতা এবং অপকারিতা উভয়ই রয়েছে। তবে আমাদের সমাজে এর উপকারের দিক থেকে ক্ষতিকর দিকগুলোর প্রভাব বেশি পরিলক্ষিত হয়। গাঁজা গ্রহণের ফলে পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র সবখানেই অশান্তি লেগেই থাকছে। তাই পরিশেষে আমি বলব গাঁজার ক্ষতিকর দিকগুলো আমলে নিয়ে গাঁজা গ্রহণ করা থেকে নিজেকে বিরত রাখুন এবং একটি সুস্থ সমাজ গঠনে সাহায্য করুন।

এরকম আরো উপকারী মূলক পোস্ট পেতে নিয়মিত আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করুন এবং আপনার যেকোনো মতামত বা অভিযোগ জানাতে নিচে কমেন্ট করুন।
Next Post Previous Post